September 10, 2010

ইসলামে কাম ও কামকলা ৪৫

যৌনক্রিয়ার উদ্দেশ্যে পরস্পরের মধ্যে ক্রীতদাসী ভাগাভাগি করা চলে।

এই নিয়মে পিতা তার পুত্রের, এমনকি পৌত্রের অধিকারভুক্ত ক্রীতদাসীর সাথেও সেক্স করতে পারে। পুত্র স্বীয় পিতার অথবা মাতার, এমনকি স্ত্রীর অধিকারভুক্ত দাসীকেও ধার নিতে পারে এবং তার সাথে সেক্স করতে পারে। ঠিক যেমন আপনার নিজের কোন দুধেল গাভী নাই, আপনার ভাইয়ের বেশ কয়েকটি আছে। এমতবস্থায় আপনি দু’চার দিনের জন্যে ভাইয়ের কাছ থেকে একটি গাভী ধার নিতেই পারেন এবং দুধ খেতে পারেন। এতে দোষের কিছু নাই, কারণ শারিয়ার আইন মোতাবেক একজন ক্রীতদাসীর ষ্ট্যাটাস দুধেল গাভীর চেয়ে বেশী কিছু নয়। এই চমৎকার নিয়মটির স্বপক্ষে যে যুক্তি আছে, হেদাইয়া থেকে তা পেশ করা হলো। মনে রাখবেন, হেদাইয়া মুসলিম সমাজের অন্যতম প্রধান আইন গ্রন্থ, ইসলাম ধর্ম সংক্রান্ত জটিল আইনী বিশ্লেষণে আইনবিদগণ প্রায়শই এই বইয়ের সাহায্য নিয়ে থাকেন এবং সেই মোতাবেক সমাধান দিয়ে থাকেন।

পুত্র কিংবা পৌত্রের ক্রীতদাসীর সাথে সেক্স করা শাস্তিযোগ্য নয় (রেফারেন্স-১১, পৃ-১৮৩)।

পিতা কর্তৃক পুত্রের ক্রীতদাসী অথবা পৌত্রের ক্রীতদাসীর সঙ্গে যৌনসম্পর্ক স্থাপন করা শাস্তিযোগ্য নয়, যদিও এই ধরণের ক্রীতদাসী যে তার জন্যে বৈধ নয় সে সম্পর্কে তার জানা থাকা প্রয়োজন; কারণ এ ক্ষেত্রে যে ত্রুটি সংঘটিত হয়েছে তা ফলাফল-সঞ্জাত (by effect), যেহেতু ইহা এমন যুক্তির উপর প্রতিষ্ঠিত যা নবীর বাণী দ্বারা সমর্থিত-“তুমি এবং তোমার সবকিছু তোমার পিতার”(Thou and thine are thy Father's) ---- এবং পিতার ক্ষেত্রে যে নিয়ম পিতামহের ক্ষেত্রেও সেই একই নিয়ম, যেন সেও একজন পিতা। এই ধরণের যৌনক্রিয়ার ফলে যে সন্তানের জন্ম হয়, তার পিতৃত্ব আরোপিত হয় উপরোক্ত পিতার উপর, যে ক্রীতদাসীটির মুল্যের জন্যে পুত্রের নিকট দায়ী থাকে। অথবা কোন ব্যক্তি যদি তার পিতার ক্রীতদাসী, অথবা তার মাতার ক্রীতদাসী অথবা তার স্ত্রীর ক্রীতদাসীর সাথে যৌনসম্পর্ক স্থাপন করে, এবং এই আরজি পেশ করে যে উক্ত ক্রীতদাসী তার জন্যে অবৈধ নয়, তার উপর শাস্তি প্রয়োগযোগ্য হবে না; এবং অভিযোগকারীর উপরও শাস্তি প্রয়োগযোগ্য হবে না- (কিন্তু যদি সে এরুপ সম্পর্কের অবৈধতা সম্পর্কে জ্ঞাত থাকে, তার উপর শাস্তি প্রয়োগযোগ্য হবে,---এবং ঐ একই নিয়ম প্রযোজ্য যখন কোন ক্রীতদাস তার মনিবের সঙ্গে দাসীবৃত্তিতে আবদ্ধ মেয়ের সাথে যৌনসম্পর্ক স্থাপন করে):---কারণ এদের মধ্য হতে লাভ অর্জন করার স্বার্থ বিরাজিত; সুতরাং যে ব্যক্তি এরূপ কাজ করেছে হয়তো সে ধারণা করেছে যে এ ধরণের উপভোগ তার জন্যে বৈধ,--যে কারণে তার ক্ষেত্রে ভ্রান্ত ধারণার ত্রুটি আরোপযোগ্য; যদিও ইহা সুস্পষ্ট বেশ্যাবৃত্তি সংঘটনের সমতুল্য। (জাহির রেওয়ায়েতেও) ঐ একই আইন, যদি উপরে বর্ণিত যে কোন ঘটনায় ক্রীতদাসীটি এই আরজি পেশ করে যে সে উক্ত কাজ বৈধ জেনে করেছে, এবং পুরুষটির তরফ হতে এই মর্মে কোন আরজি পেশ করা হয় নাই,----এবং যেহেতু একজন পুরুষ ও একজন নারীর মধ্যে সংঘটিত যৌনক্রিয়া একটিমাত্র কাজ হিসেবে বিবেচিত, এর অর্থ এই দাঁড়ায় যে যেকোন পক্ষ হতে পেশকৃত বৈধতাসংক্রান্ত আরজি ভ্রান্ত ধারণারূপ ত্রুটির সৃষ্টি করে যা উভয়ের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, সুতরাং উভয়ের প্রতি শাস্তি প্রয়োগ বাতিলযোগ্য।

অসমাপ্ত

0 comments:

Post a Comment

পাঠকের মতামত