September 13, 2010

ইসলামে কাম ও কামকলা ৪৬

আচ্ছা, স্ত্রীলোকের যৌনাঙ্গসমুহের উপর দৃষ্টিপাত সম্পর্কে ইসলামী শাস্ত্রের বিধান কী? সবাই জানেন, গোপনে গোপনে এই রসালো কাজটি করতে পুরুষের লোভের অন্ত নাই। এই কারণেই প্লেবয় মার্কা পর্ণো ম্যাগাজিনের রমরমা ব্যবসা বাজারে। ঝকঝকে মলাটের উপর নগ্ন নারীমুর্তি নিয়ে বিচিত্র সব ম্যাগাজিন প্রতিনিয়ত ডাকছে আপনাকে, লুকিয়ে লুকিয়ে এক ঝলক দেখে চোখের সুখ মিটিয়ে নিচ্ছেন আপনি। তবে কোন ইসলামী ভাই কখনও তা স্বীকার করবে না। যৌনাঙ্গের কথাবাদ দিন, তাদের মতে স্ত্রীজাতির নাভির নীচে দৃষ্টিপাত করা সরাসরি হারাম। এতে কবিরা গুনাহ হয়। এমনকি মেয়েদের খোলা হাতের দিকে তাকানোও পাপ, কারণ কে জানে কখন সেই ‘মৃনালসদৃশ্য ভুজযুগল’ হতে মদনশর বের হয়ে ইসলামি ভাইয়ের নরম বুক বিদ্ধ করে বসে। ইসলামী ভাইদের নৈতিকতা এতটাই উচু আর ভঙ্গুর যে সুরক্ষিত দুর্গে আবদ্ধ করে না রাখলে যেকোন সময়ে তা ভেঙে চুরমার হয়ে যেতে পারে। স্ত্রী অঙ্গের প্রতি দৃষ্টিপাত না করার এই ইসলামী বিধান কি সকলের বেলায় সমভাবে প্রযোজ্য? আপনি বিশ্বাস করুন আর না করুন, এই বিধান সকলের বেলায় সমভাবে প্রযোজ্য নয়।

নারীটি যদি দুর্ভাগ্যক্রমে দাসী হয়, তবে তার সর্বাঙ্গ ডিসপ্লে করা হান্ড্রেড পারসেন্ট জায়েজ। আমি আবার বলছি-তার সর্বাঙ্গ; অর্থাৎ তার বক্ষ, তার যোনি, তার ভগাঙ্কুর, তার পায়ুপথ সবকিছুকেই আপনি আপনার দৃষ্টি দিয়ে ইচ্ছেমত লেহন করতে পারেন। এতে কোন পাপ হবে না আপনার। মাশাল্লাহ, কী অপুর্ব নেয়ামত আল্লাহপাক আপনার জন্যে সৃষ্টি করে রেখেছেন।

আমার কথা যদি আপনার বিশ্বাস না হয়, নীচের হাদিসটি পড়ুন।

স্লেভ-উয়োম্যানের (ক্রীতদাসী) জননেন্দ্রিয়ের প্রতি তাকানো জায়েজ (রেফারেন্স-১১, পৃ-৫৯৯)।

স্ত্রী অথবা ক্রীতদাসীর শরীরের যেকোন অংশের দিকে তাকানো জায়েজ:--
কোন লোক তার ক্রীতদাসীর শরীরের যে কোন অংশের দিকে তাকাতে পারবে, এমনকি জননেন্দ্রিয়ের প্রতিও, যদি সে ইচ্ছে করে, তবে শর্ত থাকে যে সে নিষিদ্ধ সম্পর্কের আওতায় পড়ে না; এবং সে তার স্ত্রীর সর্বাঙ্গের প্রতিও তাকাতে পারবে, কারণ নবী বলেছেন- “তোমার স্ত্রী এবং ক্রীতদাসী ছাড়া আর সকলের প্রতি দৃষ্টিকে সংযত রাখ”। তবে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে অনুষ্ঠিত সঙ্গমাদিতে একে অপরের যৌনাঙ্গের প্রতি দৃষ্টিপাত না করাই উত্তম, কারণ নবী বলেছেন- “তোমরা যখন স্বগোত্রীয় স্ত্রীলোকের সাথে সঙ্গম করবে, তখন যতদুর পার নিজেদেরকে ঢেকে রাখবে; এবং ততটা উলঙ্গ হয়ো না, কারণ গর্দভ প্রজাতি এরূপ করে থাকে”।

উপরোক্ত নির্দেশে স্ত্রীর সাথে যৌনসঙ্গমকালে সংযত আচরণ অনুসরণ করতে সুপারিশ করা হয়েছে। তবে দাসী-প্রজাতির সাথে যথেচ্ছ আচরণ করা থেকে বিরত রাখতে কে তাকে নিষেধ করবে? বস্ততঃ ইসলামের দৃষ্টিতে দাসী বাজার থেকে কিনে আনা একটি সেক্স মেশিন ছাড়া আর কিছুনা, তার প্রভু বা মাষ্টার মেশিনটিকে যেভাবে খুশী সেভাবে চালাতে পারে, যা সে স্ত্রীর ক্ষেত্রে পারে না। কেন ইবনে ফাহদ স্ত্রীদের চেয়ে দাসীদের কাছে বেশী তৃপ্তি পায় তার নিগুঢ় রহস্যটি বোধ হয় এখানেই নিহিত (দ্রষ্টব্যঃ উপরে বর্ণিত মুয়াত্তাঃ বুক নং-২৯, হাদিস নং-২৯.৩২.৯৯)।

অসমাপ্ত

1 comments:

Anonymous said...

The Hadith referred is not true. First term is a verse of Quran and another term is created by you. So you should justify it with Muatta Book-29.

Post a Comment

পাঠকের মতামত