রচনাসূচী

August 20, 2009

ইসলামে কাম ও কামকলা ৩৯

মুসলমানরা আমেরিকাকে গ্রেট শয়তান বলে অভিহিত করে থাকে। আচ্ছা, যদি এমন হয় যে মুসলমান জিহাদিরা আমেরিকা দখল করে নিল। এই অবস্থায় আমেরিকার কাফের রমনীদের ভাগ্যে কোন্ পরিণতি অপেক্ষা করে আছে? দেখা যাক- এই অবস্থায় সত্যিকারের ইসলামের কাছে থেকে কী সমাধান মেলে। জনৈক সুপন্ডিত ইসলামি মোল্লা বন্দিনী মার্কিন নন্দিনীদের সম্পর্কে নিম্নোক্ত বিধান দিয়েছেন।

ইসলাম ধর্ম-সম্পর্কিত প্রশ্নোত্তরের একটি ওয়েবসাইট:

দক্ষিন হস্তের অধিকার (right hand possessions)
http://www.binoria.org/q&a/miscellaneous#possessions
(লিংকটি অপসারণ করা হয়েছে- অগ্নি)

প্রশ্নঃ দক্ষিন হস্তের  অধিকার বলতে কী বুঝায়, তা পাওয়ার উদ্দেশ্যই বা কি? কোন কোন ভাই মনে করেন যে এই আমেরিকায়ও দক্ষিন হস্তের অধিকারে কোন কিছু আসলে তাতে দোষের কিছু নেই।

উত্তরঃ দক্ষিন হস্তের অধিকার বা ‘মালাকুল ইয়ামিন’ বলতে বুঝায় ক্রীতদাস বা দাসী (স্লেভস কিংবা মেইডস), যা যুদ্ধবন্দী হিসেবে কিংবা বাজার হতে ক্রয়সুত্রে মুসলমানদের দখলে আসে। ক্রীতদাসী মুসলমানদের দখলে আসলে তাদের সাথে যৌনসম্পর্ক স্থাপন করা বৈধ এবং সঠিক। বর্তমান যুগেও যদি কোন কাফেরদের দেশ মুসলমানদের অধিকারে আসে, এই নিয়ম পালন করা বৈধ এবং সঠিক।

উপরের উত্তরটি একটু ভালভাবে অনুধাবন করুন পাঠক। উক্ত মোল্লা যে সিদ্ধান্তটি দিলেন, তার নিগলিতার্থ কী দাড়ায়! কোনপ্রকার রাখঢাক না করে খাঁটি ইসলাম সম্পর্কে অকপট মতামত দেয়ার জন্যে এই মোল্লাকে অবশ্যই ধন্যবাদ দিতে হয়।

তথাকথিত ইসলামপন্থীদের মতো ঝোপের আড়ালে মুখ ঢেকে আসল প্রশ্নটিকে পাশ কাটাননি এই মোল্লা, তিনি কোরাণ-হাদিস বর্ণিত  নিয়মটিকে সহজ, অবিকৃত, খাঁটি  এবং  দ্ব্যর্থহীনভাবে আমাদের সামনে তুলে  ধরেছেন। পাশ্চাত্যশিক্ষিত আধুনিক ইসলামপন্থীদের প্রতি আমার বিনীত আরজ, ইসলামী মোল্লাটির উপরোক্ত অকপট মতামতের জবাবে তারা কোন্ কৈফিয়ৎ পেশ করবেন এখন?

অসমাপ্ত

August 15, 2009

ইসলামে কাম ও কামকলা ৩৮

যুদ্ধনন্দিনীদের সাথে সেক্স করার ঢালাও অনুমতি আছে ইসলামে- এই সত্যটা মেনে নিতে অনেক ইসলামপন্থীর বড় কষ্ট হয়। এই বর্বর প্রথার মধ্যে লুক্কায়িত অমানবিকতাকে ঢাকা দিতে তারা নানারূপ যুক্তি খাড়া করেন। তারা আমতা আমতা করে বলেন- “দেখ, কোনকিছুর ভালমন্দ যাচাই করতে হলে তোমাকে অবশ্যই পারিপার্শিকতা বা স্থানকাল বিবেচনায় রাখতে হবে। ইসলামের প্রাথমিক যুগে যুদ্ধবন্দিনীদের সাথে সেক্স করার যে প্রথা চালু ছিল, তার অনেক ভুল ব্যাখ্যা হচ্ছে এখন। সেই সময়ে যুদ্ধবন্দিনীদের সাথে সেক্স করা দোষের কিছু ছিল না। মুসলমান সৈনিকদেরকে তাদের গৃহ হতে বহু দুরে যুদ্ধ এলাকায় পাঠানো হতো। বহুদিন যাবৎ স্ত্রীসঙ্গ হতে বিরত থাকতে হতো তাদের। সুতরাং তাদের যৌনক্ষুধা মেটাতে আল্লাহ এর অনুমতি দিয়েছিলেন। তাছাড়া বন্দিনীদেরও যৌনক্ষুধা ছিল, পুরুষের ছোয়া ছাড়া তারা বাকী জীবনটা কাটাবেই বা কী করে? সুতরাং এ ছিল নেহায়েতই সমানে সমান খেলা। ইসলামি আইন আপাত কঠোর মনে হলেও এর পেছনে অবশ্যই কোন সুন্দর ও জোরালো যুক্তি থাকতেই হবে”। যদি তাদের প্রশ্ন করা হয়- ‘ভাল কথা। এটা ছিল সে যুগের রীতি, তবে আইনটি কি এখনও চালু আছে? হ্যা কিংবা না স্পষ্ট করে বলুন’। এই সহজ প্রশ্নের কোন সরাসরি জবাব অবশ্য মিলবে না।

প্রশ্নটিকে সুকৌশলে পাশ কাটাবেন তারা, হয়তো বলবেন- “আমাদেরকে অবশ্যই কন্টেক্সট বিচার করে কোন প্রথার ভালমন্দ যাচাই  করতে  হবে। কোন  মুসলমান  শক্তি যদি  অন্য কোন  দেশ জয়  করে নেয়,  ইসলামিক  আইন অনুসারে তারা পরাজিতদের প্রতি সবসময়ই ন্যায়বিচার করে থাকে। ইসলাম অবশ্যই বিজিত নারী ও শিশুদিগকে রক্ষা করতে সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেবে......ইত্যাদি, ইত্যাদি”। কখনও সোজাসাপটা জবাব দেবেন না তারা।

অসমাপ্ত

পাঠ প্রতিক্রিয়া