January 25, 2010
মোবাইল ফোন সাথে নেয়ায় সৌদি কিশোরীকে ৯০ দোররা মারা হল
সম্প্রতি সৌদি আরবে ১৩ বছরের এক কিশোরীকে স্কুলে ক্যামেরাযুক্ত মোবাইল ফোন বহন করার কারণে সহপাঠীদের সামনে ৯০টি দোররা মারার আদেশ দিয়েছেন আদালত। এর সাথে তাঁকে দুই মাসের কারাদণ্ডও দিয়েছে ওই ধর্মীয় আদাল।
সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলের তেলসমৃদ্ধ বন্দরনগরী জুবাইল শহরের একটি আদালত ওই রায় দেন। স্থানীয় আল-ওয়াতান পত্রিকায় প্রকাশিত এক খবরে এ ঘটনার কথা প্রকাশিত হয়। তবে ওই ছাত্রীর পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।
খবরে জানা গেছে, স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা মোবাইল ফোনসহ ওই কিশোরীকে হাতেনাতে ধরে ফেলেন। সৌদি আরবে মেয়েদের স্কুলে মোবাইল ফোন ব্যবহার করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। সৌদী আরবে প্রায়ই প্রকাশ্যে শারীরিক নির্যাতন করে শাস্তি কার্যকরার ঘটনা ঘটে। তিন বছর আগে ১২ থেকে ১৮ বছর বয়সী ১৬ জন স্কুল শিক্ষার্থীর প্রত্যেককে ৩০০ থেকে ৫০০টি করে দোররা মারা হয়। তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, তাঁরা স্কুলের এক শিক্ষকের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেছে।
সৌদি আরবের আদালত ওয়াহাবী/ সালাফি মতাদর্শ দ্বারা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত হয়। ওয়াহাবী মতানুসারী না হলে তাকে আদালতের বিচারক হতে বাধা দেয়া হয়।
কঠোর ইসলামী শরীয়া আইন দ্বারা শাসিত সৌদি আরবে চলচ্চিত্র ও কনসার্টের মতো সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের আয়োজনও কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। আইনসম্মত সম্পর্ক নেই এমন নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশা ঠেকাতে ধর্মীয় পুলিশ সেখানে সবসময় রাস্তার উপর নজরদারি করে। সৌদি আরবের শরিয়া আইন অনুযায়ী ব্যভিচারসহ বেশকিছু নৈতিক অপরাধের বাধ্যতামূলক শাস্তি হিসেবে দোররা মারা হয়। তবে এটি অনেক সময় বিচারকের মেজাজ মর্জির ওপর নির্ভর করে। বিচারক ইচ্ছা করলে বিকল্প অন্য কোনো শাস্তিও দিতে পারেন। অপরাধীদের অপরাধভেদে দোররা মারা, প্রকাশ্যে শিরশ্ছেদ, অঙ্গহানি করা বা ফাঁসিতে ঝুলিয়ে হত্যার মতো শাস্তির দিক থেকে সৌদি আরবের অবস্থান বিশ্বে শীর্ষে। এমনেষ্টি ইন্টারন্যাশনাল সহ বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন সৌদি আরবে দোররা মারার মতো মধ্যযুগীয় শাস্তির বিষয়ে দীর্ঘদিন ধরে নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে আসছে।
ছবিসূত্র
January 24, 2010
মাসুদ খানের 'নিঃসঙ্গ'- একটি নাস্তিক্যবাদী কবিতা কি?
কালের কণ্ঠ পত্রিকার সাহিত্যপত্র 'শিলালিপি' এর ২২ জানুয়ারি, ২০১০ (বর্ষ ১ সংখ্যা ২) পড়লাম। সেখানে কবি মাসুদ খান এর লেখা 'নিঃসঙ্গ' কবিতাটিতে নাস্তিক্যবাদের গন্ধ পাচ্ছি। আপনাদের কি মনে হয়?
নিঃসঙ্গ
মাসুদ খান
লক্ষ-লক্ষ মাইল উঁচুতে, মহাকাশে,
জনমানবিহীন ভাসমান একটি স্পেস-স্টেশনে পোস্টিং পেয়ে
এসে জয়েন করেছে একজন নভো-টেকনিশিয়ান।
একদিন একটি রকেট এসে প্রচুর বোঁচকা-বুঁচকিসহ তাকে নামিয়ে দিয়ে,
ফুয়েল-টুয়েল নিয়ে কোথায় যে চলে গেল আসমানের ওপারে.....
সেও কতদিন আগে!
মৃত্যুরও অধিক হিম আর নির্জনতা....
মানুষটি একা-একা থাকে, খায়, ঘুমায়-ওজনহীন, নিঃসাড়, নির্ভার....
মাঝে মাঝে নভোপোশাক পরে বাইরে বেরিয়ে সাঁতার কেটে আসে শূন্যে
কোমড়ে শিকল-বাঁধা, অ্যালুমিনিয়ামের।
দুঃখে-অভিমানে কখনো কখনো গিয়ে হেগেও আসে মহাকাশে
জ্বলজ্বল করতে থাকে তার সেই স্বচ্ছ-সুগন্ধ পুরীষপিণ্ড,
স্ফটিকের মতো ফোঁটা-ফোঁটা মূত্ররাশি...
কাছে-দূরে কোথাও কেউ নাই,
কোনো প্রেত-প্রেতিনী, অথবা কোনো যম-যমী, জিন-পরি, ভগবান-ভগবতী,
ফেরশতা-ইবলিশ কাঁহা কিচ্ছু নাই, কেউই ঘেঁষে না কাছে, যে,
তার সঙ্গে একটু কথা বলবে, কফি খাবে...
এমনকি মানুষটা যে একটু ভয় পাবে, তারও উপায় নাই...
নিজের সঙ্গেই তাই নিজেরই মিথুন ও মৈথুন, খুনসুটি, হাসাহাসি, সাপলুডু খেলা...
কেবল রজনীস্পর্শা, ভীষণবর্ণা এক গন্ধরাজ্ঞী ফুটে থাকে অবাধ, অনন্তরায়
দূরে, বহুকাল দূরে
নিঃসঙ্গ
মাসুদ খান
লক্ষ-লক্ষ মাইল উঁচুতে, মহাকাশে,
জনমানবিহীন ভাসমান একটি স্পেস-স্টেশনে পোস্টিং পেয়ে
এসে জয়েন করেছে একজন নভো-টেকনিশিয়ান।
একদিন একটি রকেট এসে প্রচুর বোঁচকা-বুঁচকিসহ তাকে নামিয়ে দিয়ে,
ফুয়েল-টুয়েল নিয়ে কোথায় যে চলে গেল আসমানের ওপারে.....
সেও কতদিন আগে!
মৃত্যুরও অধিক হিম আর নির্জনতা....
মানুষটি একা-একা থাকে, খায়, ঘুমায়-ওজনহীন, নিঃসাড়, নির্ভার....
মাঝে মাঝে নভোপোশাক পরে বাইরে বেরিয়ে সাঁতার কেটে আসে শূন্যে
কোমড়ে শিকল-বাঁধা, অ্যালুমিনিয়ামের।
দুঃখে-অভিমানে কখনো কখনো গিয়ে হেগেও আসে মহাকাশে
জ্বলজ্বল করতে থাকে তার সেই স্বচ্ছ-সুগন্ধ পুরীষপিণ্ড,
স্ফটিকের মতো ফোঁটা-ফোঁটা মূত্ররাশি...
কাছে-দূরে কোথাও কেউ নাই,
কোনো প্রেত-প্রেতিনী, অথবা কোনো যম-যমী, জিন-পরি, ভগবান-ভগবতী,
ফেরশতা-ইবলিশ কাঁহা কিচ্ছু নাই, কেউই ঘেঁষে না কাছে, যে,
তার সঙ্গে একটু কথা বলবে, কফি খাবে...
এমনকি মানুষটা যে একটু ভয় পাবে, তারও উপায় নাই...
নিজের সঙ্গেই তাই নিজেরই মিথুন ও মৈথুন, খুনসুটি, হাসাহাসি, সাপলুডু খেলা...
কেবল রজনীস্পর্শা, ভীষণবর্ণা এক গন্ধরাজ্ঞী ফুটে থাকে অবাধ, অনন্তরায়
দূরে, বহুকাল দূরে
Subscribe to:
Posts (Atom)



